June 13, 2024, 8:37 pm

সাংবাদিক আবশ্যক
সাতক্ষীরা প্রবাহে সংবাদ পাঠানোর ইমেইল: arahmansat@gmail.com
শিরোনাম:
প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পুরস্কার প্রাপ্ত হওয়ায় সাতক্ষীরায় স্কুল ছাত্রী কে সংবর্ধনা প্রদান সাতক্ষীরা ভাইচ চেয়ারম্যানের নিজ অর্থায়নে অসহায়দের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যাট করতে পাঠালো ভারত সততা চর্চায় শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতে কালিগঞ্জে দুর্নীতি বিরোধী রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুমোদন ছাড়াই চলছে সাতক্ষীরার ১০৪ বেসরকারি ক্লিনিক মেধাবী আমেনার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি স্বপ্নপূরণে এগিয়ে এলেন প্রবাসী শওকত আজাদ নির্বাচনী বিরোধের জের : খুলনায় মৎস্য ঘের মালিক ও ছেলের ওপর হামলা সোনার দাম ভরিতে বাড়ল ১০৭৩ টাকা প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেলেন কেশবপুরের ৮০ পরিবার দেবহাটায় প্রতিবন্ধী তরুণীকে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩
আজ দুপুরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে রেমাল, আঘাত কাল রাতে

আজ দুপুরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে রেমাল, আঘাত কাল রাতে

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে গতকাল শুক্রবার রাতে। আজ শনিবার দুপুরের মধ্যে সেটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার পর সেটি ‘প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে’ পরিণত হতে পারে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে এটি আঘাত হানতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে গতকাল সকালে নিম্নচাপ সৃষ্টির কথা জানানো হয়। এ জন্য দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়। মাছ ধরার যানগুলোকে গভীর সমুদ্রে না যেতে বলা হয়েছে। এই নিম্নচাপ যদি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়, তবে এর নাম হবে ‘রেমাল’। নামটি ওমানের দেওয়া, এর অর্থ ‘বালু’।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আজিজুর রহমান গতকাল সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে সেটি আগামীকাল রোববার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে। আর এ সময় উপকূলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

আজিজুর রহমান আরও বলেন, ‘রেমাল প্রবল ঘূর্ণিঝড় হতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি। খুলনা থেকে পটুয়াখালীর খেপুপাড়ার মাঝামাঝি স্থানে এটি আঘাত হানতে পারে। অপেক্ষাকৃত বেশি এলাকা ধরে ঘূর্ণিঝড়টির বিস্তৃতি থাকতে পারে। সমুদ্র উপকূলের সুন্দরবনে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।’

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সৃষ্ট বাতাসের গতিবেগ যদি ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার হয়, তখন তাকে ‘ঘূর্ণিঝড়’ বা ট্রপিক্যাল সাইক্লোন বলা হয়। গতিবেগ যদি ৮৯ থেকে ১১৭ কিলোমিটার হয়, তখন তাকে ‘প্রবল ঘূর্ণিঝড়’ বলা হয়। আর বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৮ থেকে ২১৯ কিলোমিটার হলে তখন সেটিকে ‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়’ বলা হয়। গতিবেগ ২২০ কিলোমিটার বা এর বেশি হলে তা হয় ‘সুপার সাইক্লোন’।

ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রভাগের বা সামনের অংশের প্রভাব রোববার সকাল থেকেই বোঝা যাবে বলে জানান আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক আজিজুর রহমান। তিনি বলেন, শনিবার রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে। রোববার থেকে বৃষ্টি আরও বাড়বে। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে উপকূলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।

ঘূর্ণিঝড়ের সময় জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্টের (আইডব্লিউএফএম) অধ্যাপক এ কে সাইফুল ইসলাম। তিনি মনে করেন, ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানতে পারে উপকূলের অনেক বড় এলাকাজুড়ে। এতে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হওয়ারও আশঙ্কা আছে।

এ কে সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের উপকূল রেমালের সম্ভাব্য আঘাতস্থল। তবে দেশের সর্বত্রই এর প্রভাব দেখা যেতে পারে। সেই প্রভাব বোঝা যাবে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার মধ্য দিয়ে। ঘূর্ণিঝড়ের সময় ৫ থেকে ১০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়ের সময় জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা কতটুকু—এমন প্রশ্নের জবাবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক আজিজুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার সম্ভাব্য সময় রোববার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে। এ সময় ভাটা চলবে। তাই এ সময় আঘাত হানলে জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা কম। তবে রাত ১২টা বা এর পরে আঘাত হানলে জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা আছে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক সংস্থা (ইউএনওসিএইচএ) গত বৃহস্পতিবার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। এতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য আঘাত হানার সময় রোববার সন্ধ্যা। সাতক্ষীরা জেলায় এর প্রভাব অপেক্ষাকৃত বেশি হতে পারে।

গতকাল রাত সাড়ে আটটার দিকে আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগরে থাকা নিম্নচাপটি গতকাল সন্ধ্যা ছয়টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭১০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে।

বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার। এটি দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর মাঝারি ধরনের উত্তাল রয়েছে।

নিম্নচাপের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে থাকা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের গভীর সাগরে যেতে বারণ করা হয়েছে।


Comments are closed.

ইমেইল: arahmansat@gmail.com
Design & Developed BY CodesHost Limited
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com