February 29, 2024, 6:27 pm

আ.লীগ নেতার নেতৃত্বে বসতঘর ভাঙচুর, লুটপাট

আ.লীগ নেতার নেতৃত্বে বসতঘর ভাঙচুর, লুটপাট

কলারোয়া প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী কেড়াগাছি ইউনিয়নের বাকসা এলাকায় এক আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় এক যুবক জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে ঘটনাটি জানালে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িত ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটকরা হলেন, বাকরা গ্রামের আশরাফুল, মোস্তাফিজুর, নজরুল, জলিল, ফিরোজ ও সেলিম।কেড়াগাছি ইউনিয়নের স্থানীয় ৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বাকসা গ্রামের বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম জানান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুরের নেতৃত্বে আমার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। ভোর ৬টার দিকে আব্দুল গফুরের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জন আতর্কিতভাবে হামলা চালায়। তারা আমার ছেলে ওসমান গণি, পুত্রবধূ আসমত আরা, আমার স্ত্রী মোমেনাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন চালায় ও বসতঘর ভাঙচুর শুরু করে। স্থানীয় গ্রামবাসী বাধা দিতে আসলেও শেষ রক্ষা হয়নি। সবকিছু তছনছ করে দিয়েছে।

তিনি আরও জানান, ২২ শতক জমি শ্বশুর আমার স্ত্রীর নামে লিখে দেয়। তিন বছর আগে সেই জমিতে ঘর তৈরি করে বসবাস করে আসছে। এই জমি আমার শ্বশুরের ভাতিজারা দাবি করেছে। মূলত এটা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে দীর্ঘদিন। এই দ্বন্দ্বের সুযোগে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুর আমার ছেলের কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করে। আমরা টাকা দিতে অস্বীকার করি। পরে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে টাকা নেয় গফুর। টাকা নেয়ার পরেই আজ এ তাণ্ডব চালিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
কেড়াগাছি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য মারুফ হোসেন জানান, আতর্কিত এ হামলার পর স্থানীয় এক যুবক জরুরি সেবা- ৯৯৯ কল দেন। তারপর কলারোয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছয়জনকে আটক করে।
ঘটনার বিষয়ে কলারোয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মনির উল গিয়াস বলেন, ভাঙচুর চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে থানাতে কেউ কল দেয়নি। জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় ২২ জনের নাম উল্লেখপূর্বক ও অজ্ঞাতনামা ১২-১৩ জনের নামে থানায় এজাহার দিয়েছেন আজিজুল ইসলাম। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।


Comments are closed.

© সাতক্ষীরা প্রবাহ
Design & Developed BY CodesHost Limited