July 13, 2024, 3:33 am

সাংবাদিক আবশ্যক
সাতক্ষীরা প্রবাহে সংবাদ পাঠানোর ইমেইল: arahmansat@gmail.com
উন্নয়নের নামে রেলের বিপুল টাকা লোপাটের তদন্তে নেমেছে দুদক

উন্নয়নের নামে রেলের বিপুল টাকা লোপাটের তদন্তে নেমেছে দুদক

এফএনএস : দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের উন্নয়নের নামে বিপুল টাকা লোপাটের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে। রেললাইনে পাথর সরবরাহ ও স্টেশন পরিষ্কারের নামে প্রায় ৪শ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। বিগত ২০১৭ সালে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বিভিন্ন স্থানে রেললাইনে সামান্য কিছু পাথর ফেলে এবং এক বছর ধরে ভিম ও বি−চিং পাউডার না কিনেই গোপনে কোটি কোটি টাকার টেন্ডার আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর বাইরে আরো কয়েকটি বিষয়ের অনিয়ম-দুর্নীতির ব্যাপারেও দুদক অনুসন্ধান শুরু করেছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং দুদক সংশি−ষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশি−ষ্ট সূত্র মতে, বিগত ২০১৭ সালে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের রেললাইনে পাথর সরবরাহের নামে কয়েক কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। রেলের গতি বাড়ানোর নামে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হয়। তারপর ওই অঞ্চলের বিভিন্ন লাইনে ১০-৩০ কিলোমিটার হারে গতিও বাড়ানো হয়। কিন্তু বছর না যেতেই একের পর এক ট্রেন দুর্ঘটনায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আবার ট্রেনের গতি কমাতে বাধ্য হয়। এ নিয়ে রেললাইন সংস্কারের নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠে। দুদক তদন্তের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেছে। এখন সেগুলো নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। সূত্র জানায়, রেললাইন সংস্কারের পাশাপাশি গত কয়েক বছরে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের স্টেশনগুলো পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার নামেও টেন্ডার করে সরকারি অর্থের অপচয় করা হয়েছে। অথচ স্টেশনগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কাজে বি−চিং বা ভিম পাউডারসহ অন্যান্য মালামাল কোনো অর্থবছরে কেনাই হয়নি। এ নিয়ে সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ২৩১টি স্টেশনের মধ্যে ৯২টি বন্ধ রয়েছে। আর ৫৮টি ক্ষয়িষ্ণু। তবে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন প্রায় ৫০টি। তার মধ্যে ১০টি স্টেশন প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার আওতায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। বাকি ৪০টি স্টেশন প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিকের আওতায়। অন্যদিকে ওই ৪০টি স্টেশন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকেও কেনাকাটা করা হয়। ওসব অভিযোগ তদন্ত করে দেখছে দুদক। এদিকে প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক বেলাল উদ্দিন সরকার অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে দুদক রাজশাহী সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম রেলের পাথর সরবরাহসহ বেশকিছু অনিয়মের বিষয়ে অনুসন্ধানের সত্যতা স্বীকার করে জানান, অনুসন্ধান শেষ হওয়ার পরেই কথা বলা যাবে। অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, কাজ না করে বিল পরিশোধের কোনো সত্যতা নেই। পাথর সরবরাহ করার পরেই টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। যারা ঠিকমতো পাথর সরবরাহ করেনি এমন ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করে বিলও আটকে দেয়া হয়। কিন্তু তিনি চলে যাবার পর ওই ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ করার কথা শুনেছেন বলে জানান ওই প্রকৌশলী।


Comments are closed.

ইমেইল: arahmansat@gmail.com
Design & Developed BY CodesHost Limited
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com