January 15, 2025, 1:59 pm
এস এম হাসান আলি বাচ্চুঃযৌবন হারিয়ে বার্ধক্য পার করতে দিন গুনছে কেশবপুর, তালা, পাইকগাছার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কপোতক্ষ নদ। এ নদের উপর নির্ভরশীল ছিলো কপোতাক্ষ পাড়ের হাজার হাজার জেলে সম্প্রদায়ের মানুষ। নিত্যদিন জীবিকা নির্বাহের এক মাত্র ভারসা ছিলো তাদের এ নদ। এ নদে জাল বেয়ে মাঝ ধরে ব্যস্ত সময় পার করতো তারা। সময়ের পরিক্রমায় এ নদ তার নব্যতা হারানোর ফলে কপোতাক্ষ পাড়ের হাজারও জেলে এখন বেকার সময় পার করছে। উপয়ান্ত না পেয়ে জীবন-জীবিকার তাগিদে কপোতাক্ষ পাড়ের জেলে সম্প্রদায়ের মানুষ জাল বুনে ও নৌকা গড়ে দিন পার করছে, কেউ কেউ অভাবের তাড়নায় সব হারিয়ে অনত্র চলে গেছেন, কেউবা আবার পৈত্রিক এ পেশা পরিবর্তন করে অন্য পেশা বেছে নিয়েছে।সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, পলি জমে নদের তলদেশ উঁচু হয়ে পড়ায় এ অঞ্চলের প্রায় ৩০ প্রজাতির মাছ আজ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। যার ভিতরে উল্লেখযোগ্য, মিনা মাছ, গুলি মাছ, কুচি মাছ ইত্যাদি। অন্যদিকে নব্যতা হারানোয় কপোতাক্ষের দু পাশেই পড়েছে ভূমি দস্যুদের ছোবল, চলছে ভূমি দখলের মহাউৎসব। গুণিজনরা বলছে কপোতাক্ষকে বাঁচাতে হলে আগে কপোতক্ষকে দখল মুক্ত করতে হবে। অন্যথায় যা আমাদের এলাকার নিয়মে পরিণতে হয়েছে প্রতি বছর সে ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে এ আঞ্চলের সকলকে। বর্ষা মৌসুমে প্রতিবছরই কপোতাক্ষ পাড়ের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে থাকে। পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও এ পানি সরার কোন জায়গা নেই। নেই হাত বাড়ালেই উঁচু জায়গা পাবার আশা। বাধ্য হয়েই পানির ভিতরে বসবাস করতে হয় এসব অঞ্চলের মানুষের। যার ফলে নানান রকম পানিবাহিত রোগও দেখাদেয় কপোতাক্ষ পাড়ের মানুষের শরীরে। অজানা কতো শিশুরই মৃত্যু হয় এ পানিতে ডুবে। তবুও জন্ম স্থানের মায়া কেউ-ই ছাড়তে পারেনা। পারেনা ভিন্ন এলাকায় বসবাসের স্বপ্ন দেখতে।কপোতাক্ষ পাড়ের বিষ্টু পদ বলেন, একদিন এ গাঙ্গে জাল না ফেল্লে খাওয়া চলতো না। আর এখন সেখানে জাল ফেলা তো দুরে থাকুক ময়লা ফেলার জায়গা নাই। বাধ্য হয়ে বাপ-দাদার এ পেশাকে ছেড়ে এখন বেকারীর দোকান খুলে বসেছি। যা দু টাকা আয় হয় তা দিয়েই সংসার চালে আমাদের।কিনা রাম বিশ্বাস বলেন, আমি এখন নৌকা গড়ার কাজ করে দিন কাল কোন রাকম অতিবাহিত করছি। এক সময় এ কপোতাক্ষ নদে জাল বেয়ে দিন কাল পার করতাম। ভালোই ছিলাম কিন্তু নদি ভরে যাওয়ার কারনে উপয়ন্ত না পেয়ে কাঠ মিস্ত্রীর কাজ শুরু করেছি।
Comments are closed.