April 24, 2024, 2:22 am

সাংবাদিক আবশ্যক
সাতক্ষীরা প্রবাহে সংবাদ পাঠানোর ইমেইল: arahmansat@gmail.com
শিরোনাম:
খুলনায় অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার তালায় ৬০ বছর পর ৩৩ বিঘা সরকারি জমি উদ্ধার সাতক্ষীরায় বৃষ্টির আশায় ইসতিসকার নামাজ আদায় পাইকগাছায় শেখ হাসিনা প্রদত্ত খাবার পানি সংরক্ষণের জলাধার বিতরণ হঠাৎ এফডিসিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে উপকূলের বিস্তীর্ণ জনপদের মাটি ও মানুষ সাতক্ষীরায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর মোটরসাইকেল বহরে বোমা হামলা প্রাণ প্রাণসায়ের খালের ময়লা-আবর্জনা অপসারণ কার্যক্রম শুরু সাতক্ষীরায় সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাস্তবায়নে উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশলা সাতক্ষীরায় বেসিক ট্রেড স্কীল ডেভালপমেন্ট ফোরামের মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ
জয়নগরে হতদরিদ্রদের কর্মসৃজন প্রকল্পে অর্ধেক শ্রমিকও কাজ করেনা

জয়নগরে হতদরিদ্রদের কর্মসৃজন প্রকল্পে অর্ধেক শ্রমিকও কাজ করেনা

হত দরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন প্রকল্পে চলতি অর্থ বছরে দ্বিতীয় ধাপে কলারোয়া উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নে ১৮৪ জন শ্রমিক বরাদ্দ থাকলেও অর্ধেক শ্রমিকও কাজ করেনা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, জয়নগর ইউনিয়নে চলতি অর্থ বছরে ওই প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের কাজ ১ মে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও মে দিবসে সরকারি ছুটি থাকায় কাজ শুরু হয় ২ মে থেকে। খোঁজ নিয়ে জনা গেছে এবার বরাদ্ধের অর্ধেক শ্রমিক কাজে যোগ দেয়নি। জয়নগর ইউনিয়নে ওই প্রকল্পের কাজ শুরু থেকেই প্রতি ওয়ার্ডে ২জন করে ৯টি ওয়ার্ডে মোট ১৮ জন শ্রমিক নিয়মিত অনুপস্থিত ছিল। জয়নগর ইউনিয়নের কর্মসৃজন প্রকল্পের আব্বাস আলি, অমল, ছকিনা, সাবিনা, রউফ, রাজ্জাকসহ একাধিক শ্রমিকের সাথে কথাবলে জানাগেছে,এমনিতে একাজে পারিশ্রমিক মাত্র ২০০ টাকা। তারপর চল্লিশ দিনের কাজ শেষ হলেও গত কোটায় টাকা পেতে সময় লেগেছে প্রায় ৩ মাস। সবচেয়ে বড় কষ্ট হল মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কাজ করে পাওয়া যায় ২০০ টাকা। আর আদৌও কাজ না করে অনেকের নামে টাকা ওঠে। দ্বিতীয় ধাপের চলমান কাজে অভিযোগ আছে, জয়নগর ইউনিয়নের ২, ৭, ৮, ৯ নং ওয়ার্ডে কাজ শুরুর তিনদিন পর কাজ শুরু হয়। গত ১৮ মে কলারোয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু জয়নগর ইউনিয়নের ইজিপিপি প্রকল্পের আওতায় চল্লিশ দিনের কাজ ৬, ৭ ও ৯ নং ওয়ার্ডে সরেজমিন পরিদর্শনে আসেন। পরিদর্শনকালে তিনি ৬নং ওয়ার্ডে ২৫ জন শ্রমিকের জায়গায় ১৩ জন শ্রমিক, ৭নং ওয়ার্ডে ২০ জন শ্রমিকের জায়গায় ৯ জন শ্রমিক ও ৯নং ওয়ার্ডে ২০ জন শ্রমিকের জায়গায় ৯জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখেন। জানা গেছে, ইজিপিপি প্রকল্পের চল্লিশ দিনের প্রথম ধাপের কাজের টাকা শ্রমিকরা কাজ শেষের প্রায় ৩ মাসর মাথায় টাকা পেয়েছে। শ্রমিকরা সময়মত তাদের পাওনা টাকা না পাওয়ায় ওই প্রকল্পে শ্রমিক সংকটের বড় কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। এছাড়া এবারের বোরো মৌসুমে ধান কাটার জন্যও শ্রমিক সংকটের আর একটি কারণ। তবে জয়নগর ইউনিয়নসহ আশপাশ এলাকায় ধানকাটা শেষ হলেও ইজিপিপি প্রকল্পের চল্লিশ দিনের কাজে এখনও যোগ দেয়নি। নাম প্রকাশে অনুচ্ছিক ওই প্রকল্পের একাধিক সভাপতি জানায়, প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের মোট শ্রমিকের বিল তারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে উপজেলা পিআইও অফিসে জমা দেন। প্রকল্পের অনেক সভাপতি জানান, বিশেষ কারনে দ্বিতীয় ধাপের শ্রমিকদের বিল অফিসে জমা দিতে একটু দেরি হয়ে গিয়েছিল। তবে বিশেষ কারণটা কি ? এমন প্রশ্নের উত্তর জানাননি তারা। সূত্র জানায়, জয়নগর ইউনিয়নে ইজিপিপি প্রকল্পের আওতায় চল্লিশ দিনের কাজে অনেক শ্রমিকরা কাজ না করলেও তাদের বিল এবং চল্লিশ দিনের পরিবর্তে বত্রিশ দিন কাজ হলেও প্রথম পর্যায়ের কাজের সমুদয় টাকার বিল সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসারের স্বাক্ষর করে পিআইও অফিসে দাখিল হলে জনৈক আব্দুর রহমান গত ১১-৪-২০২১ তারিখে ওই প্রকল্পে সরকারি টাকা আত্মসাত করার পায়তারার অভিযোগে কলারোয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন। সেই প্রেক্ষিতে ট্যাগ অফিসার তদন্ত করে বত্রিশ দিনের কাজের বিল ছাড় করার জন্য সুপারিশ করেন। তাতে জয়নগর ইউনিয়নে ওই প্রকল্পে প্রায় ৩ লাখ টাকা সরকারি টাকা নয়ছয় হয়নি। অভিযোগ আছে, ২০১৯ সালেও চল্লিশ দিনের কাজের প্রকল্প থেকে প্রকল্প সভাপতিরা সরকারি টাকা আত্মসাত করার লক্ষ্যে জয়নগর ইউনিয়নের সমুদয় শ্রমিকদের বিল ছাড় করার জন্য সে সময়কার দায়িত্বে থাকা ট্যাগঅফিসারের স্বাক্ষর করে পিআইও অফিসে জমা দিলে জনৈক হুমায়ুন সানা বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর দরখাস্ত দেওয়ার পর সে বারও সরকারি টাকা নয়ছয় হতে পারেনি। তবে জয়নগর ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার মহিতোষ কর্মকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি প্রকল্পগুলো পরিদর্শন না করেই বিলে স্বাক্ষর করে দেন। সরকারি টাকা নয়ছয়ের জন্য সরকারি কর্মকর্তা যথেষ্ট। ফলে সরকারি টাকা নয়ছয় হয়ে যায়। সরকারি টাকা নয়ছয় রুখতে স্ব স্ব শ্রমিকদের নামে ব্যাংক হিসাবে তাদের পারিশ্রমিকের টাকা দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্টরা শ্রমিকদের স্বাক্ষর করে নিয়ে তারা ব্যাংক থেকে শ্রমিকদের টাকা তুলে তাদের হাতে দিয়ে দেন প্রকল্প সভাপতিরা। ফলে শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাব থাকলেও সরকারি টাকা নয়ছয় বন্ধ করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। এবিষয়ে ট্যাগ আফিসার মহিতোস কর্মকারের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


Comments are closed.

ইমেইল: arahmansat@gmail.com
Design & Developed BY CodesHost Limited
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com