March 1, 2024, 9:22 pm

দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন এক নারী ||

দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন এক নারী ||

কোনো পদে নেই, দলের সক্রিয় কর্মীও নন তিনি। অথচ লালখান বাজার দাপিয়ে বেড়ান। একবার ইয়াবা বিক্রির সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন। আবার জামিনে বেরিয়ে এসেছেন। তাঁর নাম রাবেয়া আক্তার।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ফাঁদে পড়ে গত ১০ জুন নগরের মতিঝরনা এলাকায় ধরা পড়েন রাবেয়া আক্তার। তিনি নিজেকে ‘যুব মহিলা লীগের নেত্রী’ পরিচয় দিয়ে লালখান বাজার এলাকায় ইয়াবা বিক্রি করে আসছিলেন বলে জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। নিজেকে আবার কখনো আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে দাবি করেন তিনি। নগরের লালখান বাজার এলাকায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে পুরোনো বিরোধ উসকে দিতে এই নারী ভূমিকা রাখছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।রাবেয়া সম্প্রতি জামিনে বেরিয়ে আসায় লালখান বাজারের মতিঝরনা এলাকায় আবার মাদকের বিস্তার ঘটছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাদক ব্যবসা ঠিক রাখতে রাবেয়া আক্তার ক্ষমতাসীন দলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। লালখান বাজার এলাকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি দ্বিধাবিভক্ত। এ সুযোগ নিয়ে রাবেয়া আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তিনি একটি পক্ষের ব্যানার ব্যবহার করে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন। ফেসবুকে লাঠি হাতে নিজের ছবি ও উত্তেজক পোস্ট দিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছেন।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত সোম ও মঙ্গলবার রাতে লালখান বাজার এলাকায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। কারাবন্দী দিদারুল আলম মাসুম এবং নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা আবুল হাসনাত মো. বেলালের অনুসারীদের পুরোনো বিরোধ আবার জিইয়ে ওঠে। এর মধ্যে রাবেয়া আক্তারও লাঠিসোঁটা হাতে নিয়ে একটি পক্ষের হয়ে মাঠে নামেন। খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রণব চৌধুরী বলেন, রাবেয়া মাদকসম্রাজ্ঞী। জুন মাসে লালখান বাজারের মতিঝরনায় মাদকসহ ধরার ঘটনায় খুলশী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। তাঁর কারণে যদি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা থাকে তাহলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুমের মুক্তির দাবিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন রাবেয়া আক্তার। মতিঝরনা ইয়াবা সিন্ডিকেটের সদস্যরা তাঁর নেতৃত্বে কিছুদিন ধরে প্রতিনিয়ত মিছিল সমাবেশ করছেন।

দিদারুল আলমের এক অনুসারী নাম প্রকাশ না করে প্রথম আলোকে বলেন, রাবেয়া আক্তার মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। দিদারুলের মুক্তির আন্দোলনের সঙ্গে তাঁর কর্মসূচির কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

রাবেয়া আক্তারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে দিদারুলের অনুসারী দাবি করেন। তিনি এর বাইরে কোনো মন্তব্য না করে তাঁর স্বামী জাকির হোসেনকে মুঠোফোনটি ধরিয়ে দেন। জাকির হোসেন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাবেয়া আক্তার যুবলীগের নাম ব্যবহার করার কে? তাঁর চেহারা কখনো দেখিনি।’

এলাকার বাসিন্দারা জানান, প্রতিপক্ষকে নাজেহাল, কটূক্তি, লাঠিসোঁটা নিয়ে মহড়া এবং রাস্তায় পাহারা বসিয়ে জনমনে আতঙ্ক ও সংঘর্ষের উসকানি দিয়ে যাচ্ছেন রাবেয়া। এতে যেকোনো মুহূর্তে লালখান বাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।


Comments are closed.

© সাতক্ষীরা প্রবাহ
Design & Developed BY CodesHost Limited