April 12, 2024, 12:16 pm

সাংবাদিক আবশ্যক
সাতক্ষীরা প্রবাহে সংবাদ পাঠানোর ইমেইল: arahmansat@gmail.com
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্তাদের জন্য ‘সামার গ্রিটিংস’!

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্তাদের জন্য ‘সামার গ্রিটিংস’!

সরকারি বিধি অমান্য করে ঠিকাদারি (পরামর্শক) প্রতিষ্ঠানের ‘উপহার’ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) এবং সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) বিরুদ্ধে। তালিকাভুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘দোহাটেক’ এই দুই বিভাগ-ইউনিটের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য গ্রীষ্মকালীন উপহার (সামার গ্রিটিংস) হিসেবে কয়েক গাড়ি আম পাঠিয়েছে।

রোববার (১৩ জুন) দুপুরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সেকেন্ড গেটে সেই আম গ্রহণ করে আম উৎসবে মাতেন আইএমইডি ও সিপিটিইউর কর্মকর্তাদের গাড়িচালকরা। উৎসবমুখর পরিবেশ দেখে ঢাকা পোস্টের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপস্থিত দোহাটেকের কর্মচারী ও সিপিটিইউ এর গাড়িচালকরা বলেন, সচিব ও ডিজিসহ আইএমইডি ও সিপিটিইউ কর্মকর্তাদের জন্য এসব আম এসেছে।

কে পাঠিয়েছে বা কোথা থেকে এসেছে- জানতে চাইলে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যান। আমের ছবি তুলতে গেলে তারা বাধা দেন এবং সাংবাদিক পরিচয় জানতে পেরে আমের গাড়ি নিয়ে দ্রুত মন্ত্রণালয়ের ভেতরে চলে যান কর্মচারীরা।

তবে তার আগেই ঢাকা পোস্টের হাতে আসা ছবিতে দেখা যায় প্রতিটি আমের ক্যারেটের ওপর দোহাটেকের স্টিকার লাগানো রয়েছে। সেখানে লেখা আছে ‘সামার গ্রিটিংস ২০২১’। অর্থাৎ দোহা টেক-এর পক্ষ থেকেই এই আম পাঠানো হয়েছে। এছাড়া এই বিভাগের গাড়ি চালকদের প্রাথমিক বক্তব্যেও পরিষ্কার, এসব আম উপহার হিসেবেই এসেছে।

দোহাটেক হলো সিপিটিইউ-এর প্রধান পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। সিপিটিইউ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দোহাটেক তাদেরকে পরামর্শ সেবা দিয়ে আসছে।

সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা ১৯৭৯ লঙ্ঘন: সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা ১৯৭৯ এর বিধি-৫ এ বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী সরকারের পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে, নিকট আত্মীয় বা ব্যক্তিগত বন্ধু ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট থেকে কোনো উপহার গ্রহণ করতে বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তিকে গ্রহণের অনুমতি প্রদান করতে পারবেন না। যা কর্তব্য পালনে বাধ্যবাধকতায় আবদ্ধ করে।

বিধি ২৭বি-তে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী নিজ দায়িত্ব পালনকালে যদি দেখতে পান যে, কোনো কোম্পানি বা অন্য কোনো ব্যক্তির সঙ্গে চুক্তি সম্পর্কিত যেকোনো বিষয়ে তার পরিবারের কোনো সদস্য বা কোনো নিকটাত্মীয়ের স্বার্থ রয়েছে এমন কোনো বিষয়ে তার বিবেচনাধীন আছে এবং উপরোক্ত কোম্পানির অধীনে তার পরিবারের কোনো সদস্য বা নিকটাত্মীয় কর্মরত আছেন তাহলে তিনি নিজে বিষয়টি বিবেচনা না করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট সিদ্ধান্তের জন্য প্রেরণ করবেন।

দোহাটেক প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি ই-পিএমআইএস-এর কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিপিটিইউতে নিযুক্ত আছে। তাদের কাছ থেকে কোনো ধরনের উপহার সামগ্রী গ্রহণ করা সুস্পষ্ট আইনের লঙ্ঘন এবং নৈতিকভাবে দৃষ্টিকটু।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিপিটিইউ এর মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত সচিব মো. শোহেলের রহমান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা একেবারেই কিছু জানি না। কারা করছে, আপনারা কী বলছেন? আমরা এবং আমাদের দফতরের কেউই এ সম্পর্কে জানি না। কাইন্ডলি (অনুগ্রহ করে) আপনারা একটু ইনভেস্টিগেশন (তদন্ত) করে দেখুন।’

সিপিটিইউ-এর পরামর্শক প্রতিষ্ঠান দোহাটেক কি না জানতে চাইলে ডিজি বলেন, ‘জি’। যদি সিপিটিইউ-এর কেউ দোহাটেকের আম উপহার নিয়ে থাকেন, তাহলে তা সরকারি বিধি-বিধান পরিপন্থি কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই এটা বিধি-বিধানের পরিপন্থি। কোনো পরামর্শক বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কোনোকিছু নেওয়ার বিধান নেই। আমাদের কোনো কর্মকর্তা আম নেয়নি, খবর নিয়েছি।’

এদিকে, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে তাদের স্টিকার লাগানো আম পৌঁছেছে স্বীকার করলেও দোহাটেকের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে সেই আম সরকারি ওই বিভাগের জন্য নয় বরং তাদের নিজেদের কর্মীদের জন্য পাঠানো হয়েছে।

দোহাটেকের ডেপুটি টিম লিডার মো. নাজমুল হোসেন বলেন, আমাদের গাড়িগুলোতে আমরা প্ল্যানিং মিনিস্ট্রির স্টিকার ব্যবহার করি। আমাদের গাড়িগুলো আউটসোর্সিং করা। ডিজি, সচিব, পরিচালক বা কোনো কর্মকর্তার গাড়িতে আম ওঠেনি। আমাদের পল্টনের অফিসের নিজস্ব কর্মকর্তাদের অর্ডারে আমগুলো এসেছে।

পল্টনের অর্ডার আগারগাঁও কেন এল? আর শুরুতে কর্মচারীরা কেন বললেন আম এসেছে ওই বিভাগের কর্মকর্তাদের জন্য- এ প্রশ্নের জবাব না দিয়ে নাজমুল হোসেন উল্টো এই প্রতিবেদককে জেরা শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘আপনি কোন পেপারে কাজ করেন, আপনার নাম কী?’ যদিও আগে একবার তাকে এই প্রতিবেদকের পরিচয় দেওয়া হয়েছে।


Comments are closed.

ইমেইল: arahmansat@gmail.com
Design & Developed BY CodesHost Limited
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com