April 18, 2024, 8:28 pm

সাংবাদিক আবশ্যক
সাতক্ষীরা প্রবাহে সংবাদ পাঠানোর ইমেইল: arahmansat@gmail.com
পৌরসভা নির্বাচন: আওয়ামী লীগের বিপর্যয়ের চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে, দায় কার?

পৌরসভা নির্বাচন: আওয়ামী লীগের বিপর্যয়ের চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে, দায় কার?

ভোটের দিন পুলিশের লাঠিপেটায় নৌকার ভোটে ধ্বস নামার গুঞ্জন থাকলেও এটাই হারের একমাত্র কারণ বলে মনে করেন না আওয়ামী লীগের বিভিন্নস্তরের নেতাকর্মীরা। নির্বাচনে দলের পরাজয় নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে চায়ের আড্ডায় বসে সাধারণ মানুষের মধ্যে এনিয়ে আগ্রহের কমতি নেই। বিশেষ করে ১৪ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ ধাপের নির্বাচনে সারাদেশের ৫৫টি পৌরসভার মধ্যে একমাত্র সাতক্ষীরা পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী জয়লাভ করেছে। আর একটি পৌরসভাও জোটেনি বিএনপি প্রার্থীদের কপালে। এনিয়ে সাতক্ষীরা শহরের এক চায়ের কাপের আড্ডায় হাস্যরসের মধ্যে একজন বলেই বসলেন দুই-একটা পৌরসভা বিএনপিকে না দিলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই প্রশাসনকে দিয়ে ম্যাকানিজম করে সাতক্ষীরা পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থীকে জিতিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে, আওয়ামী লীগের আভ্যন্তরীন হাজারো সংকট উঠে এসেছে অনুসন্ধানে। এরমধ্যে সবচেয়ে বড় অভিযোগ আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থীরা বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী তাজকিন আহমেদ চিশতি এবং স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী নাছিম ফারুক খান মিঠুর কাছ থেকে সুযোগ সুবিধা নিয়ে ভোট করেছেন। তারা নিজেদের ভোট ছাড়া দলীয় মেয়র প্রার্থীর জন্য কিছুই করেন নি। এমনকি আওয়ামী লীগের একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থীর কর্মীরা প্রকাশ্যে ধানের শীষ অথবা নারিকেল গাছের ব্যাজ বুকে লাগিয়ে ভোট কেন্দ্রের আশে পাশে অবস্থান করেছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের এক জনপ্রতিনিধি মুখে নৌকার কথা বললেও প্রশাসনের উপর প্রভাব সৃষ্টি করে নিরপেক্ষ ভোটের নামে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের কোনঠাসা করার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করেন বলে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন রয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা শেখ হারুণ অর রশিদ জানান, ২০০৫ সাল থেকে সাতক্ষীরা পৌরসভার ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে আ.লীগের কোন কমিটি নেই। ফলে এখানে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি খুবই দুর্বল। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বিগত দিনে সাতক্ষীরা পৌরসভার উন্নয়নে পাহাড় পরিমান ব্যর্থতার চিত্র ভোটারদের সামনে তুলে ধরতে পারেন নি। কলারোয়ার ভোটকে কেন্দ্র করে আমরা প্রশাসনের উপর নির্ভর হয়ে পড়ি। পৌরসভার দোকান উচ্ছেদের বিষয়ে আমরা কোন ভূমিকা রাখতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, সাতক্ষীরা পৌরসভায় হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ভোটার আছে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার। তাদেরকে অনেকে আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাঙ্ক হিসেবে চিহ্নিত করলেও প্রকৃত পক্ষে তাদের অনেকেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থীরা চিশতি ও মিঠুর কাছ থেকে সুযোগ সুবিধা নিয়ে দলের মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করেছেন বলেও সমালোচনা করেন তিনি।
শেখ হারুণ আরও বলেন, দলীয় নেতা কর্মীদের সমন্বয়হীনতা, চারদলীয় ভোট ব্যাংকে আঘাত হানতে ব্যর্থ হওয়া, জামায়াত ও বিএনপি উভয়দলের প্রার্থী থাকার পরও দু’দিন আগে তাদের মধ্যে সমঝোতা হওয়া, নির্বাচনে কালো টাকার প্রভাব, পুলিশ প্রশাসনের বৈরী মনোভাব ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ এর মৃত্যুর কারণে দলীয় নেতাকর্মীরা তাৎক্ষণিক ভেঙে পড়ায় সাতক্ষীরা পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শেখ নাসেরুল হকের পরাজয়ের অন্যতম কারণ।

গত রোববার অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরা পৌরসভার নির্বাচনে জেলা বিএনপি’র সাবেক সাংগঠণিক সম্পাদক তাজকিন আহমেদ চিশতি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ২৫ হাজার ৮৮ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন।

অপরদিকে ১৩ হাজার ৫০ ভোট পেয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শেখ নাসিরুল হক। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাবেক যুবদল নেতা নাসিম ফারুক খাঁন মিঠু পেয়েছেন ১৩ হাজার ২২১ ভোট। জেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারী নুরুল হুদা পেয়েছেন ২৮৮৮ ভোট ও ইসলামিক শাসনতন্ত্র আন্দোলনের আব্দুর রউফ পেয়েছেন ১৬৭৯ ভোট। মোট ভোটার ছিল ৮৯ হাজার ২২৪। ভোট পড়েছে ৫৫ হাজার ৯২৬ টি।

রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সাতক্ষীরা পৌরসভার বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে যেয়ে দেখা গেছে সকাল থেকে নারী ও পুরুষ ভোটারদের নাতিদীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যায়। অনেককে বলতে শোনা গেছে, দুপুর ১২টার পর আর ব্যালট পাওয়া যাবে না। শুধুমাত্র আঙুলে কালি লাগিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে। যদিও এবার ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। তাই সকাল সকাল ভোট দিতে এসেছি। তারা ভোট দেওয়ার পর ধানের শীষের পক্ষে শতভাগ সুন্দর ভোট হচ্ছে এমন প্রচার হয়ে যাওয়ায় ধানের শীষ ও নারিকেল গাছ প্রতীকের নেতা কর্মীরা বাড়ি বাড়ি লোক পাঠিয়ে ব্যাটারিচালিত ভ্যানে বা ইজিবাইকে ভোটার আনার ব্যবস্থা নেন। সাবেক জামায়াত নেতার পক্ষে নীরবতার কারণে ধানের শীষে ভোট বাড়তে থাকে।

আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পরাজয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তৃণমূল পর্যায়ের কর্মী মাঠপাড়ার আসাদুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের অধিকাংশই নৌকার সঙ্গে তাকে ভোট দেওয়ার কথা না বলে মেয়রের ভোট যাকে পারবেন তাকে দেবেন, অন্তত: কাউন্সিলর প্রাথী হিসেবে তাকে ভোটটি দেওয়ার জন্য ভোটারদের কাছে অনুরোধ করেছেন।

নৌকার পক্ষে সক্রিয় কর্মী হিসেবে লস্করপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাজ করা রবিউল ইসলাম বলেন, কোন বাঁধা ছাড়াই ভোট হচ্ছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে বিএনপি জামায়াত কর্মীরা বাড়ি বাড়ি যেয়ে ভ্যানে ও ইজিবাইকে ভোটার নিয়ে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।

সুলতানপুরের আওয়ামী লীগ কর্মী কাজী সাঈদুজ্জামান বলেন, পরাজয়ের দোষ অন্য কারো নয়, অতিরিক্ত আত্ম বিশ্বাস ও একলা চলো নীতিই আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পরাজয়ের মূল কারণ।
বিশিষ্ঠ মানবাধিকার কর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত মনে করেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের সঙ্কট, নৌকা প্রার্থীর তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে জনসম্পর্ক গড়ে না ওঠা, সর্বোপরি মৌলবাদি চেতনা মুক্তিযুদ্ধের ও প্রগতিশীল চেতনার বিরুদ্ধে এক জোট হয়ে কাজ করায় সাতক্ষীরা পৌরসভায় নৌকার পরাজয় হয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠণিক সম্পাদক ও বর্তমানে জেলা কমিটির সদস্য ফিরোজ হোসেন বলেন, রোববারের নির্বাচনে পুলিশ জামায়াত বিএনপি’র প্রার্থীদের পক্ষে থেকে আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে। প্রতিবাদ করতে যেয়ে মাঠপাড়া নবনূর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে তিনি, ছাত্রলীগ নেতা মিন্টু ও সালামসহ ৫জন আহত হয়েছেন। আগরদাঁড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শহরের রসুলপুর বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে পুলিশের উপস্থিতিতে লাঞ্ছিত হয়েছেন। সেক্ষেত্রে দলীয় নেতারা যথাযথ ভূমিকা রাখতে না পারায় দলীয় কর্মীদের মনোবল ভেঙে যায়।
জানতে চাইলে সাতক্ষীরা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দলীয় প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে পরাজিত শেখ নাসিরুল হক বলেন, সাতক্ষীরা আওয়ামী লীগের জামায়াত বিএনপি’র ভোট ব্যাংক ভাঙার শক্তি নেই। ধানের শীষ ও নারিকেল গাছ প্রার্থীর অর্থনৈতিক অবস্থার কাছে তিনি প্রায় জিরো। তাছাড়া শেষ রাতেই জগ প্রতীকের প্রার্থী জামায়াত নেতা নুরুল হুদার সঙ্গে ধানের শীষের সমঝোতা হয়ে যায়। ফলে জামায়াতের ভোটের অধিকাংশই পড়ে ধানের শীষে। এছাড়া বাবার মতো অভিভাবকের দায়িত্ব পালনকারি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মুনসুর আহমেদের আকষ্মিক মৃত্যু ভোট বাক্সে প্রভাব ফেলেছে।
জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা ফিরোজ কামাল শুভ্র বলেন, তিনটি চোরাচালানি সিন্ডিকেট আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করেছে। আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশের ভোট নারিকেল গাছ প্রতীকে পড়েছে। তা ছাড়া ভোটে অর্থনৈতিক প্রভাব পড়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের আত্মসন্তুষ্টিতে ভোগা, প্রশাসন নিরপেক্ষতা হারানো ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে বসাবসি হলেও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় সাতক্ষীরা পৌরসভায় নৌকার পরাজয় হয়েছে।
জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবু মনে করেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদের মৃত্যু পৌরভোটে প্রভাব না ফেললেও প্রশাসনের বৈরি আচরণ, দলীয় নেতা কর্মীদের সমন্বয়হীনতা ও আন্তরিকতার ঘাটতি নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে। পৌরভোটের জন্য গঠিত নির্বাচন কমিটির তিনজনের পরিচিতি কম থাকায় ভোটে তার প্রভাব ফেলেছে।
বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সাতক্ষীরা জেলা শাখার সম্পাদক এড. ফাহিমুল হক কিসলু বলেন, সমন্বয়হীনতা, আন্তরিকতা ও দূরদর্শিতার অভাবের কারণে নৌকার পরাজয় হয়েছে। সারা দেশে পৌর নির্বাচনে প্রশাসন যেভাবে কাজ করেছে সাতক্ষীরা পৌরসভায় তার ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে। পৌরভোটকে কেন্দ্র করে জানুয়ারি মাসের শেষের দিক মহাজোটের নেতৃত্ব পর্যায়ে সভায় জাতীয় পার্টি তিনটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনয়নে আওয়ামী লীগের সমর্থন চেয়েছিল। সব মিলিয়ে ৪ ফেব্রুয়ারি জাপা, আওয়ামী লীগ ও ওয়ার্কার্স পার্টির জেলার উচ্চ পর্যায়ের সমন্বয় সভা হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। এরপরও নেতা কর্মীদের আত্মসন্তুষ্টিতে ভোগার কারণে ও ভোটে কালো টাকার প্রভাব পড়ায় নৌকা প্রার্থীর পরাজয় হয়েছে।
জাতীয় পার্টির সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান আশু বলেন, সাতক্ষীরায় অধিকাংশ সময় এন্টি আওয়ামী লীগাররা ক্ষমতায় থেকেছে। আগে তারা ১৪ দলে থাকলেও এখন তারা বিরোধী দল। এরপরও সমন্বয়ের অভাবে আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীরা সংগঠিত হতে পারেনি। পুলিশের ভূমিকা নিরপেক্ষ ছিল দাবি করে তিনি বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির মৃত্যু একটা শূণ্যতা সৃষ্টি করেছে।
সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সাতক্ষীরা সদরে চার বার জামায়ত ও বিএনপি’র সাংসদ ছিল। এখারকার জনগণের একটি বড় অংশ ভারত থেকে মাইগ্রেটেড। ফলে তারা আওয়ামী লীগ বিরোধী। তারা জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য পার্টিতে ভোট দেয়। আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা যথেষ্ট ভালো প্রার্থী শেখ নাসিরুল হকের পক্ষে কাজ করলেও অনেক নেতা কর্মী পৌর আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ায় তারা নিজেদের ভোট করতে যেয়ে মেয়র প্রার্থীর জন্য কাজ করতে পারেননি। ফলে নৌকার পরাজয় হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে সাতক্ষীরা পৌরসভা নির্বাচনে ভোটার ছিল ৭৯ হাজার ৬৩৪টি। ভোট পড়ে ৫১ হাজার ৬২০টি। বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী তাসকিন আহম্মেদ চিশতি ১৬ হাজার ৪৭০ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শেখ আজাহার হোসেন পেয়েছিলেন ১২ হাজার ৮৮৩ ভোট। যুবদল নেতা নাসিম ফারুক খান মিঠু পেয়েছিলেন ১২ হাজার ৫৩২ ভোট। সাতক্ষীরা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন নৌকা প্রতীকে পেয়েছিলেন নয় হাজার ৭২ ভোট।


Comments are closed.

ইমেইল: arahmansat@gmail.com
Design & Developed BY CodesHost Limited
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com