July 13, 2024, 3:03 am

সাংবাদিক আবশ্যক
সাতক্ষীরা প্রবাহে সংবাদ পাঠানোর ইমেইল: arahmansat@gmail.com
প্রতারণার ঢাল এক নারীসহ সাদিক গ্রেপ্তার ছিনতাইয়ের মামলায় আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক, সাত দিন করে রিমান্ড আবেদন

প্রতারণার ঢাল এক নারীসহ সাদিক গ্রেপ্তার ছিনতাইয়ের মামলায় আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক, সাত দিন করে রিমান্ড আবেদন

জেলা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাদিকুর রহমান ও তার এক নারী সহযোগী সুমাইয়া সিমুকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। তাদেরকে মঙ্গলবার ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাদিকের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাইয়ের চার লাখ টাকা।গ্রেপ্তারকৃত সৈয়দ সাদিকুর রহমান সাদিক সাতক্ষীরা শহরের মুনজিতপুরের সৈয়দ মোখলেছুর রহমানের ছেলে ও সুমাইয়া শিমু উত্তর পলাশপোলের মৃত আব্দুর রকিবের মেয়ে।এদিকে গ্রেপ্তারকৃত সাদিক গত ৩১অক্টোবর কালিগঞ্জের পাওখালিতে বিকাশ এজেন্টের ২৬ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের মামলায় (জিআর-২৩৭/১৯ কালি) জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম রাজীব কুমার রায়ের কাছে বুধবার সন্ধ্যায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। একইভাবে গ্রেপ্তারকৃত সুমাইয়া শিমু দু’জনপ্রতিনিধির আপত্তিকর ভিডিওচিত্র গ্রহণ করে ব্লাকমেইল করার দায়ে দায়েরকৃত সদর থানার দু’টি মামলায় (২৮, ২৯) একই বিচারকের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সাদিককে বেআইনি অস্ত্র রাখা, দু’টি পর্ণগ্রাফিসহ চাাঁদাবাজির ধারায় দায়েরকৃত দু’টি মামলা ও একটি মাদকের মামলায় (সদর থানার মামলা নং-২৮, ২৯.৩১,৩২) সাত দিন করে রিমান্ড আবেদন জানানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক হারাণ চন্দ্র পাল।প্রসঙ্গত: গত ৩১ অক্টোবর কালিগঞ্জের পাওখালিতে বিকাশ এজেন্টের ২৬ লাখ টাকা ছিনতাই চক্রের মাস্টার মাইন্ড সাদিকুরের দুই সহযোগী সাইফুল ও মাহমুদুল ইসলাম দীপ বাইপাস রোডে ২৯ নভেম্বর পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়। এর পর থেকে সাদিক ছিল পলাতক। সংগঠনের শৃংখলা বিরোধী কাজের সাথে জড়িত থাকার দায়ে সৈয়দ সাদিকুরকে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিস্কার ও জেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এছাড়া আশাশুনির একজন ও সদর উপজেলার একজন জনপ্রতিনিধির অপত্তিকর নগ্ন ছবি ভিডিও করে চাঁদা দাবি করে ব্ল¬াক মেইলের কাজে ব্যবহারের জন্য তারা নিজেরাই বাদি হয়ে গত ১৫ ডিসেম্বর সদর থানায় দু’টি পর্ণোগ্রাফি তৎসহ চাঁদাবাজির ধারায় মামলা দায়ের করেন। পিচ্চি রাসেল ও হাফিজুর রহমান বাবুকে একটি দেশি তৈরি অস্ত্র ও ১৬৭ বোতল ফেন্সিডিলসহ গ্রেপ্তারের ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক হাফিজুর রহমান সদর থানায় দু’টি মামলা দায়ের করেন। এছাড়া গত ১৩ ডিসেম্বর সদর উপজেলার মাহমুদপুরের মনিরুজ্জামান সোহাগ তার কাছে ছয় লাখ চাঁদা আদায়ের অভিযোগে সাদিকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে সদর থানায় ২৪নং মামলা দায়ের করেন।

সূত্রমতে, নগ্ন করে নারী দিয়ে ভিডিও ধারণ ও নয় লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে দুই সাংবাদিকসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা সাত জনের নামে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। গত ১৫ ডিসেম্বর আশাশুনি উপজেলার একজন জনপ্রতিনিধি (৫০) ও সদর উপজেলার একজন জনপ্রতিনিধি বাদি হয়ে ২০১২ সালের পর্ণোগ্রাফি আইনের ৮(১) ও ৮(২) ধারা তৎসহ চাঁদাবাজির ধারায় পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেন। এদের মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার টিয়াখালি গ্রামের আলমাস হোসেনের ছেলে, বর্তমানে সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুরের বাসিন্দা ও সদর আসনের সাংসদ মীর মোস্তাক আহম্মেদ রবি’র আমার এমপি ডটকমের অ্যাম্বাসেডর আকাশ ইসলাম সোমবার সন্ধায় সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম বিলাস মন্ডলের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন, সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহরের মুনজিতপুরের সৈয়দ মোখলেছুর রহমানের ছেলে সৈয়দ সাদিকুর রহমান সাদিক, যুবলীগ নেতা তুহিনুর রহমান তুহিন, সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম মনি ও আশাশুনির প্রতাপনগরের সুভদ্রকাটি গ্রামের শওকত আলীর ছেলে বর্তমানে শহরের মুনজিতপুরের বাসিন্দা সুভদ্রকাটি গ্রামের বন্ধুর এক অষ্টম শ্রেণির মাদ্রাসা ছাত্রীকে বাড়ি থেকে ঈদের জামা কাপড় কিনে দেওয়ার নামে গণধর্ষণ করার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার আসামী সোহরাব হোসেন।সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক আমল কুমার রায় বলেন, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার পর সাদিক ও শিমুকে বুধবার রাত ৮টার দিকে আদালত থেকে সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।উল্লেখ্য, সাদিক-মনি-আকাশ-শিশু চক্র সাতক্ষীরার বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিক, ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে নারী দিয়ে নগ্ন ভিডিও তৈরী করতো। এরপর ঐ ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে গোনে গোনে টাকা আদায় করতো। তাদেরকে রাজনৈতিকভাবেও জিম্মি করা হতো এক নেতার পক্ষে। কথিত রয়েছে ঐ নেতাই ছিল এই সিন্ডিকেটের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। ঢাকার ভাষায় মুরগি পাঠিয়ে কাজ আদায়ে পটু ঐ হোটেল ব্যবসায়ী নেতা এই সিন্ডিকেটকে ব্যবহার করে সাতক্ষীরার বহু মানুষকে মুরগি বানিয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে।


Comments are closed.

ইমেইল: arahmansat@gmail.com
Design & Developed BY CodesHost Limited
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com