July 23, 2024, 5:47 pm

সাংবাদিক আবশ্যক
সাতক্ষীরা প্রবাহে সংবাদ পাঠানোর ইমেইল: arahmansat@gmail.com
শিরোনাম:
সাতক্ষীরা থানায় হামলার চেষ্টা, পুলিশের লাঠিচার্জ ও ফাঁকা গুলি কলারোয়ার ওয়াজেদ সরদার স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্ধোধন যশোরে ডিবি পুলিশের অভিযানে পিস্তলসহ যুবক আটক বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি হবে : প্রধানমন্ত্রী মোটরসাইকেল নিয়ে দ্বন্দ্বে ঘরে ঢুকে যুবককে গুলি করে হত্যা, গ্রেপ্তার ২ সাতক্ষীরায় কোটা বিরোধীদের সাথে ছাত্রলীগের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া কোটা বহালে হাইকোর্টের রায় বাতিল চেয়ে লিভ টু আপিল আমার নানা-দাদা মুক্তিযোদ্ধা, আমার কোটা লাগে না : মিষ্টি জান্নাত সাতক্ষীরায় কোটা আন্দলনকারী ও ছাত্রলীগ মুখোমুখি অবস্থানে বেনা‌পো‌লে ঘোষণা বহির্ভূত ১৫ হাজার ৭৫০ কেজি সালফিউরিক এসিড জব্দ
বর্তমানে এ সমাজ অন্ধকারে নিমর্জ্জিত!

বর্তমানে এ সমাজ অন্ধকারে নিমর্জ্জিত!

এশিয়া মহাদেশের মধ্যে ক্ষুদ্র একটি দেশ মোদের প্রিয় বাংলাদেশ। এদেশের আয়তনের তুলনায় লোকসংখ্যা অনেক বেশী। এই দেশ শস্য-শ্যামলা, সবুজে ঘেরা, খনিজ, বনজ, নদী বন্দর ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে মুখরিত। এই সমাজে সকল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমাদের বসবাস। অতীতে আমরা কখনও শুনি নাই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হাঙ্গামা বা বর্ণ-বৈষম্যের অসহিষ্ণুতা দেখা যায় নি। ইদানিং আমরা দেখতে বা শুনতে পাচ্ছি সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয়ে, দাঙ্গা-হাঙ্গামা একের পর এক লেগে আছে। ইন্টারনেটের যত বিকাশ ঘটছে সমাজ আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলাস বসনে মগ্ন। যুব সমাজ পর্ণ ছবি ও অপসংস্কৃতির করাল গ্রাসে সমাজ ততই যেন অবনতি হচ্ছে। ধর্মান্ধতা আর স্বার্থপরতার প্রবনতা ও অজ্ঞানতার আরাধনায় মত্ত। মনে হচ্ছে এ সমাজ অন্ধকারে নিমর্জ্জিত। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা খুবই নাজুক পরিস্থিতি। যেমন অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন, সুদ, ঘুষ, জেনা, ব্যভিচার, অপসংস্কৃতি, বেহায়াপনা সহ সকল প্রকার নেশার দ্রব্য খাওয়া ও পান করা যেন নিত্য নৈমত্তিক অভ্যস্ত। বর্তমানে যুব সমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। সমাজের রন্দ্রে রন্দ্রে দূর্নীতিতে আক্রান্ত। যত দিন পর্যন্ত সমাজ থেকে দূর্নীতি মুক্ত না হবে তত দিন সমাজ ব্যবস্থার কোন পরিবর্তন আশা করা যায় না।
সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ন্যায় বিচারই মানদন্ড। সেই ন্যায় বিচার থেকেও আজ আমরা বঞ্চিত। সমাজের প্রতিটা ক্ষেত্রে যেমন দূর্নীতি তেমন ভেজাল। ভেজাল এমনভাবে অনুপ্রবেশ করে বসে আছে যা আমরা বিস্ময়াভিভুত হয়ে পড়েছি। সকল স্তরে স্তরে ভেজাল সয়লাব। ধর্মের মধ্যে ভেজাল, বর্ণের মধ্যে ভেজাল, বংশের মধ্যে ভেজাল, খাদ্যের মধ্যে ভেজাল, সমাজের মধ্যেও ভেজাল যেমন- ধর্মান্ধতা, স্বার্থপরতার কারণে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামা বাধায়ে সমাজ আজ কলুষিত। ধর্ম চিন্তা থেকে মানুষ আজ বিচ্যুত। নিজ নিজ ধর্মের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শের কারণে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট এর মূল কারণ। সেই জন্য আজ সমাজে এত অশান্তি। বর্তমান সমাজে বংশ জাতির কোন গৌরব নাই, গৌরব এখন টাকা। প্রত্যেক গোত্র বা বংশের কর্মের উপর অধিকাংশ উপাধিতে ভূষিত যাহা পূর্ব পুরুষ থেকে বয়ে আসছে। ইদানিং দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ গোত্রের বা বংশের যে যার ইচ্ছামত উপাধি পরিবর্তন করে নিচু বংশ থেকে উচু বংশের উপাধি ব্যবহার করে বড় বড় পদমর্যাদায় অসীন হচ্ছে। একটা জমির শ্রেণী পরিবর্তন করতে হলে ডি.সি সাহেবের অনুমতি ছাড়া সম্ভব হয়না। অথচ মানুষ যে যার ইচ্ছামত শ্রেণী পরিবর্তন করে যাচ্ছে এ-ব্যাপারে সমাজে কারো কোন মাথা ব্যাথা নেই। সমাজের যে কোন পন্থায় টাকা উপার্জন করলেই বর্তমানে তিনিই সমাজপতি। বর্তমান সমাজে ন্যায় অন্যায়ের কোন মাপকাটী নেই, যেমন খাদ্য সামগ্রী, একে হাইব্রিড প্রযুক্তি তার উপর রাসায়নিক সার ও কীটনাশক। এরপর এমন কেমিক্যাল দ্বারা খাদ্য সামগ্রী সংরক্ষন করা হচ্ছে যার কারণে নিত্য নতুন ভাবে মানুষ রোগাক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্যহীনতায় ভূগছে এবং অধিকাংশ মারা যাচ্ছে। বর্তমানে বাল্যবিবাহের প্রবনতা বৃদ্ধি পেয়েছে এটা প্রতিরোধ করা সামাজিক দায়িত্ব। ইন্টারনেটে পর্ণ ছবি ও অপসংস্কৃতির দর্শনে অধিকাংশ নেশাগ্রস্থ হয়ে অকালে জীবন হারাচ্ছে। অধিকাংশ অভিভাবকরা বিড়ম্বনায় ভূগছে। ছেলেমেয়েদের উচ্ছ শিক্ষাগ্রহনের ক্ষেত্রে নেশাগ্রস্থ হয়ে অনৈত্তিক কার্য্যকলাপে জড়ায়ে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আবার কেহ কেহ প্রেম ঘটিত ব্যাপারে জড়ায়ে হাবুডুবু খাচ্ছে। সমাজের অধিকাংশ ছেলেমেয়েদের পাত্রস্থ করতে অভিভাবকরা যেমন ভীত সন্ত্রস্ত তেমনি বিপদগ্রস্থ হতে হচ্ছে। কে ভালো কে মন্দ, কে নেশাগ্রস্থ- কে চরিত্রহীন শুধু না বোঝায় কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। নির্ভেজাল আদর্শ সমাজ বাস্তবায়ন করতে এই মহেন্দ্রক্ষণের সঙ্কটময় মুহূর্তে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের ব্যক্তিস্বার্থ ত্যাগ করে বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষার জন্য অগ্রনী ভূমিকা পালন করা বাঞ্চনীয়। মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নৈতিক অবক্ষয়ের ফলে সমাজে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সীমা লঙ্ঘনকারীরাই পথভ্রষ্ট। সমৃদ্ধশালী ব্যক্তিদের অপরাধ কিন্তু সমাজ ধ্বংসের মূল কারণ। শান্তি মূলত অশান্তি দূর হওয়ার নাম। বর্তমান সমাজে নিজেদের ধর্ম নিয়ে, সম্প্রদায় নিয়ে, বর্ণ ও গোত্র নিয়ে, সাদা কালো উচু নিয়ে নিয়ে এখনও দ্বন্দ-কলহ চলছে। বর্তমান সমাজে শিক্ষা দীক্ষা যথেষ্ট উন্নতি সাধিত হয়েছে। প্রায় ঘরে ঘরে আই.এ, বি.এ, এম.এ, পি.এইচ.ডি ডিগ্রি সহ অনেকে বিভিন্ন প্রকার সার্টিফিকেট অর্জন করেছে কিন্তু প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করেছে কয়জনে। ডিগ্রীধারী হওয়া আর জ্ঞান অর্জন করা এক কথা নয়। জ্ঞানী ব্যক্তিরা জ্ঞান অন্বেশ্বন করে আর অজ্ঞানী ব্যক্তিরা খোজে সম্পদ। ধার্মিকতা ও মানবতা এই দুইটি গুনই মানুষকে সৌন্দর্য মন্ডিত করতে পারে। এর থেকেও আমরা বঞ্চিত। কি লিখেছে, কেন লিখেছে তা না জেনে কে লিখেছে এটাই গবেষনা চলছে। এরুপ বিতর্কিত মনোভাব নিয়ে সমাজ সংস্কার সম্ভব নয়। সত্যের সন্ধানীরা চিরদিন অনুসরনযোগ্য। সমাজে সৎ-যোগ্য, নীতি-নৈতিকতা ও ন্যায় পরায়ন ব্যক্তিদের হাতে নেতৃত্বের বিশেষ প্রয়োজন। সমাজ সংস্কার ও সুশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার একমাত্র পথ ঐক্যবদ্ধ হওয়া। আসুন আমরা সুশীল সমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমাজ সংস্কারের জন্য জ্ঞানী গুনী সুশীল সমাজ সহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমাজ থেকে অনৈতিক কার্য্যকলাপ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতিসহ সকল প্রকার সমাজ বিরোধী কার্য্যক্রমের প্রতিরোধ করি এবং জাতীয়তাবোধ ও ভ্রাতৃত্ববোধের অটুট বন্ধনে সমাজ সংস্কারের বিকাশ ঘটাই। সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের মনোভাবাপন্ন অবসানকল্পে একে অপরের সন্নিকটে এগিয়ে আসি। সমাজে বিত্তবান, সমাজপতি, বুদ্ধিজীবি, সুশীল সমাজ, সচেতন মহলসহ সকল শ্রেনীর মানুষের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। আমি এই প্রত্যাশা করি। ধন্যবাদ।
বাস্তববাদী লেখক ও গবেষক ঃ সরদার এম.এ মজিদ, পাটকেলঘাটা, সাতক্ষীরা, মোবাইল নং- ০১৭২৩৯১২৭৪১
তারিখ: ০৩.১২.২০১৯ খ্রি:।


Comments are closed.

ইমেইল: arahmansat@gmail.com
Design & Developed BY CodesHost Limited
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com