June 18, 2024, 10:45 pm

সাংবাদিক আবশ্যক
সাতক্ষীরা প্রবাহে সংবাদ পাঠানোর ইমেইল: arahmansat@gmail.com
শিরোনাম:
বাণিজ্যে প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের সেতু হবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাণিজ্যে প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের সেতু হবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশে ভৌগোলিক অবস্থানটা বিবেচনা করলে, যারা বিনিয়োগ করতে আসবেন তারা শুধু বাংলাদেশ পাবেন না, আমি বলব দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতেও একটা সুযোগ থাকবে এই বাজারগুলো ধরার এবং রপ্তানি করার। প্রাচ্য পাশ্চাত্যের একটা যোগাযোগের ব্রিজ হিসেবে বাংলাদেশ গড়ে উঠবে ভবিষ্যতে, যা আমাদের দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের আরও প্রসার ঘটতে সহায়তা করবে।’ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাচ্য আর পাশ্চাত্যের যোগাযোগের সেতু হিসেবে বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের আরও প্রসার হবে বলেও মনে করেন তিনি। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২১-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশে ভৌগোলিক অবস্থানটা বিবেচনা করলে, যারা বিনিয়োগ করতে আসবেন তারা শুধু বাংলাদেশ পাবেন না, আমি বলব দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতেও একটা সুযোগ থাকবে এই বাজারগুলো ধরার এবং রপ্তানি করার। প্রাচ্য পাশ্চাত্যের একটা যোগাযোগের ব্রিজ হিসেবে বাংলাদেশ গড়ে উঠবে ভবিষ্যতে, যা আমাদের দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের আরও প্রসার ঘটতে সহায়তা করবে।’ সপ্তাহব্যাপী এই সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। এ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে বিশ্বের ৩৮টি দেশের ৫৫২টি প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দেশীয় ২৮১টি এবং বিদেশি ২৭১টি। ১ নভেম্বর পর্যন্ত এই সম্মেলনের ফাঁকে ৪৫০টি বিটুবি (বিজনেস টু বিজনেস) বৈঠকের কথা রয়েছে।
এই সামিটে অবকাঠামো, আইটি, চামড়াজাত পণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মাসিউটিক্যালস, অ্যাগ্রো অ্যান্ড ফুড প্রসেসিং, প্লাস্টিক পণ্য, এফএমসিজি (ফার্স্ট মুভিং কনজিউমার গুডস) এবং পাট ও টেক্সটাইল পণ্য প্রদর্শিত হবে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ডিসিসিআই।
এই সম্মেলনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের নব নব দ্বার উন্মোচিত হবে। রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ আকর্ষণে সক্ষম হবে।’
রপ্তানি পণ্যের সংখ্যা বাড়াতে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, ‘নতুন নতুন কী পণ্য আমরা উৎপাদন করতে পারি এবং রপ্তানি করতে পারি সেটাও গবেষণা করে বের করতে হবে। সেদিকেও আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে। কোন কোন দেশে কী কী পণ্যের চাহিদা রয়েছে সেটা অনুধাবন করে সেই পণ্য আমরা বাংলাদেশে উৎপাদন করতে পারি কি না সেদিকে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ এমন একটা দেশ আমরা ইচ্ছে করলে পারি, সবকিছু করতে পারি। এই আত্মবিশ্বাস আমার আছে। জাতির পিতা বলে গেছেন।’ বেসরকারি খাতের প্রসারে আওয়ামী লীগ সরকারের নেয়া পদক্ষেপের কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি খাতেও যদি উদ্যোক্তা না হয়, শিল্পের প্রসার না ঘটায় ব্যবসা বাণিজ্য কখনও শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড়াতে পারে না।’ ঘনবসতির বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার জানিয়ে শিল্পের নামে যাতে কৃষি জমি নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করেছেন সরকার প্রধান।
তিনি বলেন, ‘ঘনবসতি পূর্ণ দেশ আমাদের। দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা দিতে হবে। আমাদের খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হবে, বৃদ্ধি করতে হবে। তার জন্য, যে সমস্ত জমি কৃষির জন্য ব্যবহার হবে সেগুলো যেন নষ্ট না হয়, আবার শিল্পের ক্ষেত্রে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা করে দেয়া, যেন আমাদের পরিবেশ নষ্ট না হয়। কাজেই পরিবেশ বান্ধব শিল্প উন্নয়নের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল আমার দেশজুড়ে করে দিচ্ছি। কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।’
এর মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতি, মানুষের ক্রয় ক্ষমতা ও দেশে বাজার সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগ আকর্ষণ বাড়াতে ও দ্রুত বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নতির লক্ষ্য নিয়ে পিপিপি অর্থাৎ পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ এই পদ্ধতি আমরা গ্রহণ করেছি। এর আওতায় আমরা প্রায় ৭৯টি প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আমাদের বিনিয়োগ হচ্ছে।’
দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের উৎপাদন, রপ্তানির পরিমাণ ও গতিশীলতা বাড়াতে বন্ড ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘তৈরি পোশাকশিল্পের ন্যায় অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্পের উৎপাদনমুখী কার্যক্রমও কাস্টমস বন্ডেড ব্যবস্থার অধীনে আসতে পারে, সেজন্য আমরা বন্ড ব্যবস্থাপনাকে অটোমেশনের প্রক্রিয়া শুরু করেছি, যা চলমান রয়েছে। যার টেন্ডার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
‘আমরা আশা করি এটি বাস্তবায়িত হলে সকল প্রকার রপ্তানিমুখী শিল্পের উৎপাদন ও রপ্তানিতে গতিশীলতা আসবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে, তাই সবকিছু ডিজিটাল পদ্ধতিতে হোক, আধুনিক পদ্ধতিতে হোক, প্রযুক্তি সম্পন্ন হোক সেটাই আমরা চাই।’


Comments are closed.

ইমেইল: arahmansat@gmail.com
Design & Developed BY CodesHost Limited
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com