April 24, 2024, 2:07 am

সাংবাদিক আবশ্যক
সাতক্ষীরা প্রবাহে সংবাদ পাঠানোর ইমেইল: arahmansat@gmail.com
শিরোনাম:
খুলনায় অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার তালায় ৬০ বছর পর ৩৩ বিঘা সরকারি জমি উদ্ধার সাতক্ষীরায় বৃষ্টির আশায় ইসতিসকার নামাজ আদায় পাইকগাছায় শেখ হাসিনা প্রদত্ত খাবার পানি সংরক্ষণের জলাধার বিতরণ হঠাৎ এফডিসিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে উপকূলের বিস্তীর্ণ জনপদের মাটি ও মানুষ সাতক্ষীরায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর মোটরসাইকেল বহরে বোমা হামলা প্রাণ প্রাণসায়ের খালের ময়লা-আবর্জনা অপসারণ কার্যক্রম শুরু সাতক্ষীরায় সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাস্তবায়নে উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশলা সাতক্ষীরায় বেসিক ট্রেড স্কীল ডেভালপমেন্ট ফোরামের মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ
মহামারী করোনা নিয়ে নতুন ভাবনা

মহামারী করোনা নিয়ে নতুন ভাবনা

বাংলাদেশ একটি ক্ষুদ্র দেশ কিন্তু আয়তনের তুলনায় অত্যন্ত ঘন বসতির দেশ বাংলাদেশ। জনসংখ্যার দিক দিয়েও এগিয়ে তাই ছোট একটি দেশে জনসংখ্যা বেশী হলে সমস্যাও বাড়তে থাকে। বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার কারনে সঠিকভাবে সব কার্য সম্পাদন করা সম্ভব হয় না। পৃথিবীর জন্ম থেকে শুরু করে আজ অবধি যত বড় বড় বা কঠিন বিপদের সম্মুখীন মানুষ হয়েছে তাহা ধীরে ধীরে সমাধানও করেছে। বিভিন্ন সময়ে ঘূর্নিঝড়, টর্নেডো, প্লাবন, ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্নিৎপাত, জলোচ্ছাস এবং বিশেষ করে কালে কালে বড় বড় মহামারী এবং ভাইরাস সবই বিজ্ঞানীরা, দার্শনিকরা বা গবেষকরা সফলতার সাথে সমাধান করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হঠাৎ করে অল্প সময়ের ভিতর সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ রূপ ধারন করা এই করোনা ভাইরাস নির্মূল করা বা প্রতিরোধ করা গোটা বিশ্বের মানুষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে বা বিভিন্ন ঋতুতে করোনা তার ধরন বা রূপ পাল্টিয়ে আরও ভয়াবহ আকারে আবির্ভূত হচ্ছে। কোন মেডিসিন বা ভ্যাকসিন কাজ করছে না। প্রযুক্তি নির্ভর উন্নত দেশগুলি আরও বেকায়দায়। ধারনা করা হয়েছিল শীতে এর প্রকোপ বাড়বে এবং গরম কাল আসলেই ভাইরাসটি আস্তে আস্তে বিদায় নিবে কিন্তু সেটা উল্টো হয়ে গেল। বরং এ মুহুর্তে সারা পৃথিবীতে আরও বিস্তার লাভ করছে। বাংলাদেশ সরকার বা বাংলাদেশের মানুষ ধারনা করেছিল খুব দ্রুতই করোনা আমাদের দেশ থেকে বিদায় নিবে কিন্তু যতই গরম আসছে ততই যেন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাঝে মৃত্যু ছিল ৫ থেকে ৬ জন গড়ে এবং আক্রান্তের সংখ্যাও অনেকটা কমে আসছিল মাত্র ৩০০/৪০০ জনে। হঠাৎ করে গরম পড়ায় এবং কোন নিয়মকানুন না থাকায় বা নিয়ম না মানার কারনে হয়তবা এই ভাইরাসটির প্রকোপ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেমন সমস্ত দেশ লকডাউনের আওতায় ছিল এবং প্রশাসন কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রণও করে আসছিল সেইটা যদি অব্যাহত থাকতো হয়তবা আমরা কিছুটা নিরাপদে থাকতে পারতাম। এখন আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় আট/দশ গুন বেড়েছে, মৃত্যুর সংখ্যাও অনেক ছাড়িয়ে গেছে। এ খেসারত দিতে হবে আমাদের সকলের। কারন অধিক ঘন জনবসতির দেশে বেশীর ভাগ লোক দিন আনে দিন খায় । পরিবারের সদস্য সংখ্যাও অনেক। যদি তাদের কেহ না কেহ আক্রান্ত হয় তখন দেখভালো করার কেহ থাকবে না। গ্রামগঞ্জের বাজারগুলোতে এবং রাস্তা ঘাটেও মানুষের ব্যাপক ভিড়। কারনে অকারনে তরুন যুবক যুবতীসহ সকল শ্রেনীর মানুষ বাজারে এবং বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ভিড় জমাচ্ছে সুতরাং এক্ষনে যদি পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হয় তবে চরম মূল্য দিতে হবে আমাদের দেশের জনগণকে। তাই আমি মনে করি আর কালক্ষেপন না করে গত বছরের করোনার প্রকোপ বা ধরন থেকে শিক্ষ লাভ করে এক্ষনে পদক্ষেপ গ্রহন করা। এদেশের মানুষ কিছুই মানতে চায়না শুধু আল্লাহকে দোষারোপ করে; তারা বলে আল্লাহ যাহা করে। আল্লাহ যদি করোনা ভাইরাসের মাধ্যমে আমার মৃত্যু নিশ্চিত করে দেয় আপনার আমার কিছুই করার থাকে না। একথা মোটেই ঠিক নহে। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং পাশা পাশি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নভাবে থাকা বা বসবাস করা; পরিবেশ সংরক্ষন করা নিজেকে নিরাপদে রাখা সব ব্যবস্থার কথা পবিত্র আল কোরআনে বলেছেন। সুতরাং নিজের সুরক্ষা নিজের কাছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন। এ মুহুর্তে বিনা মাস্কে আমাদের কাউকে বাড়ীর বাইরে না যাওয়া ভাল। দুরত্ব বজায় রেখে চলা ও ভাল, কিন্তু কে শোনে কার কথা। যাত্রীবাহী পরিবহন গুলোতে আইন করা হয়েছে। কিন্তু কোন পরিবহনকে তা মানতে দেখছি না। বেশীর ভাগ ড্রাইভার, কন্টেকটার বা হেলপার তাদের মুখে মাস্ক নেই এমনকি সীটে ডাবল যাত্রী বসাতে দেখছি। বিশেষ করে ভ্যান, ইজিবাইক, মহেন্দ্র কেউই কথা শুনছেনা, কাঁচা বাজার, মাংশের বাজার, মাছের বাজারসহ অন্যান্য মুদি দোকান, মনোহরীর দোকান গুলোতেও মানুষের অনেক ভিড়। সুতরাং এ সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়া আমার মনে হয় বেশ কঠিন হবে। এছাড়া করোনা সম্পর্কে বেশীর ভাগ মানুষের ধারনা ও খুব কম। তারা তেমন কিছু এ সম্পর্কে বোঝেনা। তাই আমার মনে হয় এক্ষনে প্রশাসনকে ব্যপক উ্েদ্দ্যাগ নিতে হবে। আবার ও রাস্তায় নামতে হবে । প্রয়োজনে লকডাউন দিতে হবে। যে কোন ধরনের যানবহন যথন তখন তল্লাসী করতে হবে মাঝে মাঝে রাস্তায় তল্লাসী চৌকি বসাতে হবে এবং বিভিন্ন এলাকায় জন সাধারনকে সচেতন করার জন্য পূনরায় মাইকিং বা লিফলেট বিলি করতে হবে। প্রত্যেকটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেম্বর বা চৌকিদারদের ও দায়িত্ব দিতে হবে। যদি আমরা নিয়ম তান্ত্রিক ভাবে আগাতে পারি, আমার মনে হয় অল্প সময়ের মধ্যে আমরা করোনা ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রন করতে পারবো এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবো। একবার ভাবুন যদি আমরা নিয়ন্ত্রণ না করতে পারি অদুর ভবিষ্যতে আমাদের কি হবে? মনে রাখা উচিত আমাদের ভিতর বেশীর ভাগ মানুষ শ্রমিক, কৃষক এবং দিন মুজুর তাদের কথাও আমাদেরকে ভাবতে হবে। তাই আসুন আমরা সবাই মিলে সচেতন হই এবং করোনার হাত থেকে নিজেদের রক্ষার জন্য আমরা সবাই মাস্ক ব্যবহার করি। নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে নিজেদের এবং নিজেদের সন্তানকে সুরক্ষা করি। পরিশেষে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করছি যতদ্রুত সম্ভব পূর্বের ন্যায় আবারো গন সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে যাহা যাহা করা উচিত তাই করুন। সকলেই যাতে আমরা নিরাপদে বাস করতে পারি এবং করোনার ভয়াবহ থাবা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারি তার সার্বিক সহযোগিতা এমুহুর্তে আপনাদের কাছে আমাদের কাম্য।


Comments are closed.

ইমেইল: arahmansat@gmail.com
Design & Developed BY CodesHost Limited
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com