April 12, 2024, 11:54 am

সাংবাদিক আবশ্যক
সাতক্ষীরা প্রবাহে সংবাদ পাঠানোর ইমেইল: arahmansat@gmail.com
শিশু কন্যাকে হত্যার চেষ্টায় মামলা নেইনি সাতক্ষীরা থানা পুলিশ!

শিশু কন্যাকে হত্যার চেষ্টায় মামলা নেইনি সাতক্ষীরা থানা পুলিশ!

৭ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও আইনজীবীর শিশু কন্যাকে হত্যার চেষ্টায় মামলা নেইনি সাতক্ষীরা থানা পুলিশ। ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় জনগণ। জানা যায়, সাতক্ষীরার একটি স্বনামধন্য আইনজীবী পরিবারের নাবালিকা মেয়ে সামিয়া ইসলাম শাহজাদী (৯ বছর)। গত রবিবার (২১.০৩.২০২১) বেলা আনু: সাড়ে ১২ টায় তার দাদীর সাথে পাশের বাড়ির পুকুরে গোসল করতে যায়। ওই সময়ে ইটাগাছা গ্রামের নারীলোভী সন্ত্রাসীমূলক একাধিক কর্মকান্ডে অভিযুক্ত মৃত অজিয়ার সরদারের ছেলে মো: আজিবার সরদার (৫০) ও একই এলাকার মৃত. অছির উদ্দিন সরদারের ছেলে মোঃ এজাহার আলী সরদার (৭০) গোসলরত অবস্থায় তাদের (অভিযুক্ত) গায়ে পানি ছিটকে লাগাকে কেন্দ্র করে শিশু শাহজাদীকে গলা ধরে পানিতে চুপিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে ক্ষ্যন্ত থাকেন নি। বরং তার মাথায় ও পিটে চড় থাপ্পর মেরে নীলা ফোলা জখম করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা ইটাগাছা গ্রামের মো: আব্দুল মজিদ সরদারের ছেলে এ্যাডভোকেট মোঃ নজরুল ইসলাম (জীবন) সংবাদ পেয়ে সাতক্ষীরা জজ আদালত থেকে বাড়িতে আসেন। এরপরে ঘটনাস্থলে যেয়ে অভিযুক্তদের কাছে ভুক্তভোগীর বাবা জানতে চাইলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে গাছ কাটা ধারালো দা ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে মারতে উদ্যত হয়। সেই সময়ে ভুক্তভোগীদের চ্যাচাম্যাচিতে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসলে অভিযুক্তরা নাবালিকার বাবাকেও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। অতঃপর ওই ঘটনায় নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার কথা ভেবে সাতক্ষীরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল ভুক্তভোগী নাবালিকার বাবা।

আরও জানা যায়, ওই ঘটনার ০৭ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও সাতক্ষীরা থানার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ভুক্তভোগীর বাবা রবিবার (২৮ মার্চ ২০২১) সকালে সাতক্ষীরা বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পেনাল কোডের ৩২৩/৩০৭/৫০৬ (২য় অনুঃ)/১১৪ ধারায় উপরিউক্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দাখিল করেন। ওই ঘটনাটি শুনানী অন্তে বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ হুমায়ন কবির (স্মারক ২৮৪ নং ফৌঃ) আদেশ প্রাপ্তির ২৪ ঘন্টার মধ্যে অত্র মামলাটি এজাহার (এফ.আই.আর) হিসেবে রেকর্ড করার জন্য সাতক্ষীরা থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ প্রদান করেন। যার নং-সি.আর-২৭১/২১ (সাত), তাং-২৮.০৩.২০২১-ইং।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রায় ২০ বছরের অধিক সময় আমরা এই এলাকায় বসবাস করি। সেই সুবাদে এলাকার বহু মানুষের সাথে আমাদের সখ্যতা রয়েছে। কিন্তু এলাকার আজিবার ও এজাহার সরদার এর মতো অত্যন্ত দুর্দন্ত, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে লিপ্ত, প্রভাবশালী, অপরাধজনক ভীতি প্রদর্শন ও আইন অমান্যকারী ব্যক্তিকে দেখিনি আমরা। তবে অভিযুক্তরা ইতিপূর্বেও বহু অপরাধমূলক কর্মকান্ডে লিপ্ত ছিল। তাদের বিরুদ্ধে এলাকার কেউ কখন প্রতিবাদ বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে মুখ খুলতে সাহস পায়নি। ওই ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তদের গ্রেফতার পূর্বক বিচারের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীর বাবা এ্যাড. মোঃ নজরুল ইসলাম (জীবন) জানান, আমার প্রাকটিস জীবনে এমন ঘটনা বিরল। আমার নাবালিকা মেয়েকে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় সাতক্ষীরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ঘটনাটির সত্যতা পেলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা রেকর্ড করেনি মামলা। অতঃপর সাতক্ষীরা বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি। ওই অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

বিষয়টি সম্পর্কে তদন্তকারী কর্মকর্তা সাতক্ষীরা থানার এস আই হাজ্জাজ জানান, ভুক্তভোগীর বাবা সাতক্ষীরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছিল। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাতক্ষীরা থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান আমাকে ঘটনাটি তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছিল। ঘটনাস্থলে যেয়ে তদন্তকালে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছিলাম। তবে ০৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন কালু স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মিমাংসা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এরপরে ওই ঘটনাটির মিমাংসা হয়েছিল কিনা তা কেউ আমাকে জানাইনি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাতক্ষীরায় আগমন ও হরতালে আমার ডিউটি থাকায় ব্যস্ত ছিলাম। সেজন্য এই বিষয়ে এখন কিছুই বলতে পারবো না।


Comments are closed.

ইমেইল: arahmansat@gmail.com
Design & Developed BY CodesHost Limited
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com