July 17, 2024, 2:11 pm

সাংবাদিক আবশ্যক
সাতক্ষীরা প্রবাহে সংবাদ পাঠানোর ইমেইল: arahmansat@gmail.com
শীতকালীন সবজির সবুজ ক্ষেতে চাষীর হাসি

শীতকালীন সবজির সবুজ ক্ষেতে চাষীর হাসি

জেলার মাঠজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। শীতকালীন সবজিতে ঠাসা প্রত্যেকটি মাঠ। আদিগন্ত মাঠে যেনো চির সবুজের আল্পনা। ফসলভরা মাঠ দেখে হাসি ফুটেছে চাষীর মুখে।চলতি মৌসুমে জেলায় শীতকালীন সবজির এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদন ও দাম ভাল থাকায় খুশি কৃষকরা। বর্তমানে যে দামে সবজি বিক্রি করতে হচ্ছে, তাতে উৎপাদন খরচ উঠে কিছু লাভ থাকবে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। আর ব্যবসায়ী ও আড়ৎদাররা বলছেন, স্থানীয় উৎপাদন ছাড়াও জেলার বাইরে থেকে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে সবজির দাম ক্রয় ক্ষমতার ভিতরে আছে।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরার সাত উপজেলায় ৯ হাজার ৭৯৫ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির আবাদ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে সদরে ২ হাজার ৪৫০ হেক্টর, কলারোয়ায় ১ হাজার ৭৩০, তালায় ১ হাজার ৭৬০, দেবহাটায় ৫৭৫, কালিগঞ্জে ১ হাজার ৯২০, আশাশুনিতে ৬৫০ ও শ্যামনগরে ৭১০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ হয়েছে। গত মৌসুমে জেলায় ৯ হাজার ২২৫ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি আবাদ হয়েছিল। সে হিসাবে এবার প্রায় ৫০০ হেক্টর বেশি জমিতে সবজি আবাদ হয়েছে। এবার জেলায় ফুলকপি, ওলকপি, বাঁধাকপি, পালংশাক, শিম, বরবটি ও টমেটোর আবাদ সবচেয়ে বেশি হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অরবিন্দ বিশ্বাস জানান, এ জেলায় বারো মাসই নানা ধরনের সবজি উৎপাদন হয়ে থাকে। গত মৌসুমের চেয়ে এবার সাতক্ষীরায় শীতকালীন সবজির আবাদ বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকা ও রোগবালাই দেখা না দেয়ায় ফলন ভালো হয়েছে।সদর উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের চাষী আব্দুস সাত্তার চলতি মৌসুমে দুই বিঘা পরিমাণ শীতকালীন সবজি আবাদ করেছেন। এর মধ্যে দেড় বিঘায় ফুলকপি এবং বাকি জমিতে বাঁধাকপি আবাদ করেছেন। জমি থেকে এ পর্যন্ত দুই দফা ফুলকপি উত্তোলন করে বাজারে বিক্রি করেছেন তিনি। তবে যা দাম পেয়েছেন তাতে তিনি খুশি। আমজাদ হোসেন বলেন, গত বছরের এ সময়ে প্রতি কেজি ফুলকপি পাইকারিভাবে ২০ থেকে ২২ টাকা দরে বিক্রি করেছিলাম। এবার তা বিক্রি করতে হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪৫ টাকায়। একই অবস্থা বাঁধাকপির দামেও। বর্তমানে প্রতি মণ বাঁধাকপি ৭০০/৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের এই সময় মণপ্রতি বাঁধাকপি বিক্রি হয়েছিল ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়।আগরদাড়ি গ্রামের কৃষক নূরুরজ্জামান সবজির দাম নিয়ে বলেন, এরকম দাম পেলে কৃষকরা সবজি উৎপাদনের দিকে ঝুঁকে যাবে। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে তিন বিঘা জমিতে তিনি ওলকপি, বাঁধাকপি ও পালংশাক আবাদ করেছেন। গত মৌসুমে বছরের এসময় প্রতি কেজি ওলকপি পাইকারিতে ১২ থেকে ১৫ টাকা বিক্রি হয়েছিল। এখন তা বিক্রি করতে হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। ১০ টাকার বাঁধাকপি ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে হচ্ছে। এমন দামে বিক্রি হলে উৎপাদন খরচও উঠে বেশ লাভ থাকবে।এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা কাঁচামাল সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রওশন আলী জানান, বাজারে চাহিদা ও সরবরাহ ঠিক থাকায় সবজির কোন ঘাটতি নেই। স্থানীয় উৎপাদন থেকে সরবরাহের পাশাপাশি জেলার বাইরে থেকেও প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ সবজি আসছে। এ কারণে সব ধরনের শীতকালীন সবজির দাম আস্তে আস্তে কমতির দিকে যাবে।


Comments are closed.

ইমেইল: arahmansat@gmail.com
Design & Developed BY CodesHost Limited
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com