July 13, 2024, 4:12 am

সাংবাদিক আবশ্যক
সাতক্ষীরা প্রবাহে সংবাদ পাঠানোর ইমেইল: arahmansat@gmail.com
সুন্দরবনকে রক্ষায় ৪০০ কোটি টাকার প্রকল্প

সুন্দরবনকে রক্ষায় ৪০০ কোটি টাকার প্রকল্প

মোংলা বন্দরে চলাচলকারী জাহাজের বর্জ্য থেকে সুন্দরবনকে রক্ষা করতে ৪০০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত প্রকল্পটি ইতোমধ্যেই অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর মোংলায় বছরে দুই শতাধিক দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করে। চলাচলকারী এসব জাহাজ থেকে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকা ও পশুর নদীতে অবাধে বর্জ্য ও দূষিত তেল ফেলা হচ্ছে। এ কারণে পশুর নদীসহ সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় পরিবেশের ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, জাহাজের বর্জ্যদূষণের ফলে জীববৈচিত্র্যও ধ্বংস হচ্ছে।পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মোংলা বন্দরে চলাচলকারী জাহাজের পশুর চ্যানেল ও মোংলা বন্দরের আশপাশের নদ-নদীগুলোকে জাহাজের তেল থেকে দূষণমুক্ত রাখতে তৈলাক্ত পদার্থ অপসারণ করার জন্য ১টি অয়েল রিকোভারি ফ্লিট গঠনের উদ্দেশ্যে ‘মোংলা বন্দরের আধুনিক বর্জ্য ও নিঃসৃত তেল অপসারণ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। প্রকল্পটি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দবিহীন অনুমোদনবিহীন নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত আছে। ৪০১ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ২০২০ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়ে ২০২২ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মোংলা বন্দরে তালিকাভুক্ত ২৪টি গার্বেজ ক্লিনার (লাইসেন্স হোল্ডার) কোম্পানি রয়েছে। কিন্তু বন্দরে কোনও গার্বেজ সেন্টার না থাকায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলো বন্দরে অবস্থান ও খালাস শেষে বন্দর ত্যাগ করার পথে সুন্দরবনের পশুর নদী ও উপকূলীয় জলসীমায় জাহাজের আবর্জনা ও দূষিত জ্বালানি তেলের বর্জ্য ফেলে রেখে যায়।অবাধে যেখানে সেখানে বর্জ্য ও দূষিত তেল এভাবে ফেলে যাওয়ার কারণে নদীর নাব্য কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে, মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে নদীর পানিও। পানিতে ফেলা বর্জ্য ও দূষিত তেলের কারণে সুন্দরবনের গাছপালাসহ উপকূলীয় নদ-নদীর মৎস্য সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে।একনেক সূত্র জানায়, মোংলা বন্দরকে রপ্তানি উপযোগী একটি আন্তর্জাতিক বন্দরে রূপান্তর করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মোংলা বন্দরে প্রয়োজনীয় সুবিধা তৈরি করার জন্য ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় জোর দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বন্দরের আধুনিক বর্জ্য ও নিঃসৃত তেল অপসারণ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি উচ্চ-অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে, যা সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।এ বিষয়ে জানতে চাইলে আরাফাত নেভিগেশন কোম্পানির জাহাজ এমভি আরাফাত-(১)-এর ব্যবস্থাপক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘আমরা সব সময়ই সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া একাধিক নদী ব্যবহার করে মোংলাবন্দরে আসা-যাওয়া করি। বন্দরে মাল খালাসের পর জাহাজের বর্জ্য নদীতে ফেলতে ফেলতেই আসি। আসলেই সেই বর্জ্য নদীর জলজ প্রাণী ও আশপাশের পরিবেশের ক্ষতি করে। কিন্তু বর্জ্য ফেলার স্থান নির্ধারিত না থাকায় আমরা এই কাজটি করি।’ বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থাপনা থাকলে তারা নদীতে কিছুই ফেলতেন না বলেও জানান।জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরের আধুনিক বর্জ্য ও নিঃসৃত তেল অপসারণ ব্যবস্থাপনা ও দক্ষতা বাড়বে। পাশাপাশি পরিবেশও সুরক্ষা হবে। এছাড়া, মোংলা বন্দরে চলাচলকারী সমুদ্রগামী জাহাজের বর্জ্যদূষণ থেকে সুন্দরবনকে রক্ষা করাসহ পশুর চ্যানেল ও মোংলা বন্দরের আশপাশের নদ নদীগুলোয় নিঃসৃত তেল থেকে দূষণমুক্ত রাখতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌ-কনভেনশনের বাধ্যবাধকতাও পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুস সামাদ। তিনি বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে।’ একইসঙ্গে আশপাশের নদীর পানি রক্ষা পাবে বলেও তিনি মনে করেন।


Comments are closed.

ইমেইল: arahmansat@gmail.com
Design & Developed BY CodesHost Limited
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com