July 17, 2024, 1:34 pm

সাংবাদিক আবশ্যক
সাতক্ষীরা প্রবাহে সংবাদ পাঠানোর ইমেইল: arahmansat@gmail.com
১৬ লাখ ভোটেই তৃতীয় জর্গেনসেন

১৬ লাখ ভোটেই তৃতীয় জর্গেনসেন

সবার চোখ যখন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানের দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর দিকে তখন গুটি গুটি পায়ে এগোচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়া লিবার্টারিয়ান দলের নারী জো প্রার্থী জর্গেনসেন।

জো জর্গেনসেনের বাক্সে ১৬ লাখের সামান্য বেশি ভোট পড়েছে বলে তার প্রচার শিবিরের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সিএনবিসি।

ডেমোক্র্যাট জো বাইডেন ও রিপাবলিকান ডনাল্ড ট্রাম্পের পর এটাই এবারের নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর পাওয়া সবচেয়ে বেশি ভোট। প্রধান দুই প্রার্থীর একেক জনের ভোট ৭ কোটির বেশি।

ভোটের হিসাবে জর্গেনসেনের পরে আছে গ্রিন দলের হাউই হকিন্স; তার প্রাপ্ত ভোট ৩ লাখ ৩৯ হাজারের চেয়ে একটু বেশি।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কেবল এই ক’জনই ছিলেন না। দেশটির নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করা ব্যক্তির সংখ্যা এক হাজার ২০০র বেশি।

সিএনবিসি জানিয়েছে, দোদুল্যমান যে কয়েকটি রাজ্যের ভোটের ফলের উপর এখনও ডনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেনের ভাগ্য নির্ভর করছে তার কয়েকটিতে লিবার্টারিয়ান পার্টি দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর ভোট কেটেছে বলেও ভাষ্য অনেক বিশ্লেষকের।

যদিও জর্গেনসেনের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে থাকা দলগুলোর প্রার্থীরা প্রধান দুই দলের ভোটবাক্সে হাত দেয় না।

“আমি একে ভোট কাটা বলি না, কেননা এই ভোটগুলো মার্কিন ভোটারদেরই,” সিএনবিসিকে এমনটাই বলেছেন এ লিবার্টারিয়ান প্রার্থী।

দুই সন্তানের মা, ক্লেমসন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক (যিনি গবেষণা করেন না, কেবল ক্লাস নেন) ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড অর্গানাইজেশনাল সাইকোলজিতে পিএইচডি ডিগ্রিধারী জর্গেনসেন লিবার্টারিয়ান পার্টির ইতিহাসে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়া প্রথম নারী।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র সময় বিকাল পর্যন্ত তার প্রাপ্ত ভোট ১৬ লাখ ২১ হাজার ২৭৩টি ভোট বলে জানিয়েছে এনবিসি।

অন্য দলগুলো ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান পার্টির ভোট কাটে না বলে জর্গেনসন দাবি করলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ‘থার্ট পার্টি’গুলো যে ভোট পায় তা ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ, শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত জর্জিয়াতে জর্গেনসেনের প্রাপ্ত ভোট ৬১ হাজার ৩৯১টি। অন্যদিকে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাম্প ও বাইডেনের মধ্যে ব্যবধান ১৬শ’র কম। এই দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান খুবই সামান্য হওয়ায় রাজ্যটিতে এখন ভোট পুনর্গননা হবে।

কেবল এবারই নয়, ২০১৬ সালেও গ্রিন পার্টির প্রার্থী জিল স্টেইন এবং লিবার্টারিয়ান পার্টির গ্রে জনসন গুরুত্বপূর্ণ ‘সুইং স্টেট’গুলোতে ব্যাপক সংখ্যক ভোট পেয়েছিলেন।

এ দুই প্রার্থী সেবার মিশিগানে একত্রে ২ লাখ ২২ হাজার ৪০০র বেশি ভোট পেয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট হতে হলে সেবার মিশিগান জিততেই হতো হিলারি ক্লিনটনকে। কিন্তু রাজ্যটিতে তিনি ট্রাম্পের কাছে ১০ হাজার ৭০৪ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান।

একই অবস্থা হয়েছিল ফ্লোরিডাতেও। ‘থার্ড পার্টির’ প্রার্থীরা সেখানে পেয়েছিলেন ২ লাখ ৯৩ হাজারের বেশি ভোট; হিলারি হারেন এক লাখ ১৯ হাজার ৭৭০ ভোটের ব্যবধানে।

গত শতকের ৮০-র দশক থেকে লিবার্টারিয়ান পার্টির সঙ্গে যুক্ত জর্গেনসেন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে দলের হয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে লড়েছিলেন।

১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত লিবার্টারিয়ান পার্টির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, দলটি মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে সব ধরনের সরকারি হস্তক্ষেপের বিরোধী। দলটি নাগরিকের উপর নির্ধারিত বিভিন্ন ধরনের কর হ্রাস ও বিলুপ্ত করতেও আগ্রহী।

“যদি সরকারের কোনো দায়িত্ব থাকে, সেটিও হবে জনগণকে বলপ্রয়োগ ও জালিয়াতির হাত থেকে রক্ষা করা,” বলা হয়েছে তাদের ওয়েবসাইটে।

এই একই কারণে জর্গেনসেন এই কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বাধ্যতামূলক মাস্ক পরার নির্দেশনা দেওয়ার বিরোধী।

জর্গেনসেনের মতে, যত দিন যাবে লিবার্টারিয়ান পার্টির ভোট বাড়তেই থাকবে।


Comments are closed.

ইমেইল: arahmansat@gmail.com
Design & Developed BY CodesHost Limited
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com